সফল উদ্যেক্তা হওয়ার ১১ টি কার্যকর উপায়

50
নতুন নতুন চাকরির পোষ্ট পেতে আমাদের পেজ লাইক ও শেয়ার করে রাখুন
Business aspiration
Businessman looking for new job opportunities on the city

যিনি উদ্যেোগ গ্রহণ করেন তিনিই উদ্যোক্তা। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আধুনিক ও জনপ্রিয় কাজ হচ্ছে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারা। উদ্ভাবনী ক্ষমতা, সৃজনশীলতার বিকাশ, নতুনত্ব দ্বারা যেকোনো ব্যক্তিই নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। উদ্যোক্তা হতে হলে প্রয়োজন অদম্য সাহস, ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা, দুর্বার ইচ্ছাশক্তি ও প্রচণ্ড অধ্যবসায়। উদ্যোক্তা তার অদম্য পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে পারেন। আজকের নিবন্ধে আলোচনা করবো সফল উদ্যেক্তা হওয়ার কিছু কার্যকরী উপায়।

১. লক্ষ্য স্থির করা

লক্ষ্যহীন মানুষের জীবনে কখনো সফলতা ধরা দেয় না। পৃথিবীতে যারা সফল হয়েছেন তারা পূর্ব থেকেই লক্ষ্য স্থির করে রেখেছিলেন এবং সেই লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করে গেছেন। উদ্যোক্তা হতে হলে সর্বপ্রথম সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করতে হবে। নতুবা কাজ করতে গেলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।
মারিও কুওমো বলেছেন, “মাত্র দুটি পন্থায় সফল হওয়া যায়। একটি হচ্ছে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা, ঠিক যা তুমি করতে চাও। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া।”

২. সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা

এল এ এলেন বলেছেন, “planning is a trap to capture the future”- একজন নবীণ উদ্যোক্তাকে অবশ্যই সফল ব্যক্তির জীবনী সম্পর্কে জানতে হবে। যেমন আপনি স্টিভ জবস এর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। সার্ক ট্যাঙ্কের কাছ থেকে ব্যক্তিত্ববান হওয়ার শিক্ষা নিতে পারেন। সব কিছু পর্যালোচনা করে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। কারণ পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যত কাজের অগ্রিম রুপরেখা।

৩. যোগাযোগ রক্ষা

সফল উদ্যেক্তা হতে হলে অবশ্যই যোগাযোগে দক্ষ হতে হবে এবং নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। অনেক মানুষের সাথে যোগাযোগ থাকলে যেকোনো বিষয়ে তথ্যের প্রয়োজন হলে তারা সাহায্য করতে পারবে এবং যেকোনো সমস্যা সমাধানে সহায়তা করতে পারবে। সুষ্ঠু যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরিতে সাহায্য করবে। অনেক মানুষের সাথে যোগাযোগ থাকলে অজানা বিষয় সম্পর্কেও ধারণা লাভ করা যায়।

৪. ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা

প্রবাদ আছে-“No Risk No Gain.” উদ্যোক্তার সর্বদা ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা থাকতে হবে। যদিও ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা সফলতার অন্তরায় কিন্তু নবীন উদ্যোক্তার জীবনে শুরুতেই সফলতা আশা করাটা বোকামি। একের পর এক কাজে দক্ষতার মাধ্যমে ব্যবসায় সফল হওয়া যায়।

৫. উদ্ভাবনী ক্ষমতা

উদ্যোক্তাকে উদ্ভাবনী ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে। ছবিসূত্রঃ thestar.com

সফল উদ্যোক্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য উদ্ভাবনী ক্ষমতা। উদ্যোক্তাকে প্রতিনিয়ত সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে হবে এবং নতুনত্ব সৃষ্টি করতে হবে। তাহলে ব্যবসায় দ্রুত সফল হওয়া সম্ভব হবে। অন্যকে অনুসরণ না করে, অনুকরণ না করে নিজের মত করে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে সামনের পথে এগিয়ে যেতে হবে।
ডেল কার্নেগি বলেছেন, “অনুকরণ নয়, অনুসরণ নয়, নিজেকে খুঁজুন, নিজেকে জানুন, নিজের পথে চলুন।”

৬. আত্মবিশ্বাস

আত্মবিশ্বাস সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। ছবিসূত্রঃ theodysseyonline.com

উদ্যোক্তাকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। আত্মবিশ্বাস কাজে শতভাগ সফলতা এনে দেয়। অন্যের সমালোচনায় কান না দিয়ে নিজের মত কাজ করে গেলে সফলতা সুনিশ্চিত। তবে অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাস ব্যর্থতার কারণ। তাই অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী হওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।

৭. আবেগ নিয়ন্ত্রণ

ছবিসূত্রঃ theodysseyonline.com

মানুষ মাত্রই আবেগপ্রবণ। তবে সফল উদ্যক্তা হতে হলে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখতে হবে। হিংসা, দ্বেষ, হতাশা, উদ্বেগ, উদাসীনতা প্রভৃতি আবেগ থেকে নিজেকে বিরত রাখলে উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়া যায়। ঈর্ষাপরায়ণ মানুষ জীবনে কিছুই করতে পারে না। হতাশ ব্যক্তি প্রতি মূহুর্তে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, কাজে বাঁধা আসলে পিছিয়ে পড়ে। তাই ঈর্ষা, হতাশাকে বিদায় জানাতে হবে।

উদ্যোক্তার প্রধান কাজ হলো যেকোনো সমস্যার সমাধান করা। উদাসীনতা সফল উদ্যক্তা হওয়ার অন্তরায়। উদ্যোক্তাকে উদাসীন মনোভাব দূর করে ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কর্মী ব্যাবস্থাপনা ইত্যাদি সম্পর্কে আরো দায়িত্ববান হতে হবে।

৮. অন্যদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ

উদ্যোক্তা হিসেবে চারপাশের মানুষ, পরিবেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। অন্যের একটি বা অনেক ভাল গুণাগুণ থাকতে পারে যা আপনার নেই। তার সেই ভালো গুণাগুন বা কাজের দক্ষতা কিংবা কাজের প্রক্রিয়া আপনিও অনুসরণ করতে পারেন। এতে আপনার ব্যবসায়ের উন্নতি হবে বৈকি অবনতি হবে না। শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে যিনি আপনাকে সফলতা ও ব্যর্থতার কারণগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করবে। হতে পারে আপনার প্রতিবেশী একজন উদ্যোক্তা যিনি আপনার চেয়েও কম বয়সী কিন্তু ব্যবসায়ে সফল আপনি তাকেই অনুসরণ করতে পারেন। কারণ নিশ্চয়ই তার ব্যবসায়িক কৌশল আপনার কৌশলের চেয়ে অধিকতর শ্রেয়।

৯. আত্মোন্নয়ন

উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত আত্মোন্নয়ন করতে হবে। বাচনভঙ্গি, বিক্রির কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে। ভয়কে দূরে ঠেলে দিয়ে বুকে সাহস নিয়ে কাজে এগিয়ে যেতে হবে। প্রযুক্তিজ্ঞান, কারিগরিজ্ঞানে দক্ষ হতে হবে।

১০. টিম গঠন

টিম গঠন করে কাজ করলে অতি দ্রুত সফল হওয়া যায়। একক ভাবে কাজ করার চেয়ে টিম গঠন করে কাজ করলে সফলতা সুনিশ্চিত। টিমের সদস্যরা কর্মঠ হলে আপনার উপর কাজের চাপ কমবে। ব্যবসায়ের অনেক কাজ টিমের সদস্যরা সম্পন্ন করতে পারবে। টিমের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন, বাজারজাতকরণ প্রভৃতি কাজগুলো খুব সহজেই করা যায়।

১১. সময়ের সদ্ব্যবহার

কথায় বলে,“সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়।” তাই সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে। মোটকথা উদ্যোক্তাকে সময় সম্পর্কে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। একদিনের কাজ অন্যদিনের জন্য ফেলে রাখলে অনেক কাজ জমা হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তা সমাধান করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার।