কেন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের চাকরি পেতে কষ্ট হয়? পড়ুন কারণ এবং সমাধানের উপায়

492
নতুন নতুন চাকরির পোষ্ট পেতে আমাদের পেজ লাইক ও শেয়ার করে রাখুন
Interview-Selection-Human-Claw-Machine-760

একজন বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে বেশ ভালো সিজিপিএ নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। এত ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়েও দীর্ঘদিন তাকে বেকার থাকতে দেখেছি আর এক রকম হতাশা নিয়ে বলতে শুনেছি, “আরে দেশে ফ্রেশারসদের কেউ চাকরি দিতে চায় না। শুধু অভিজ্ঞতা চায়। আবার এটাও বলতে শুনেছি, দেশে চাকরি নেই। ওই টিউশিওনিতে যা ইনকাম”।

 আসলে বাস্তবতা অন্য কথা বলে। চাকরির বাজারে চাকরি যেমন কম তেমন কোয়ালিটি গ্রাজুয়েটও কিন্তু কম। কোয়ালিটি মানেই যে সবসময় ভালো সিজিপিএ হবে এমনটা বলা হচ্ছে না। একজন ফ্রেশারের রেজাল্টের পাশাপাশি আরও কিছু দক্ষতা থাকা প্রয়োজন যা তাকে অন্য সব প্রার্থী থেকে আলাদা করে চেনাবে। সাধারণত যে কথাটা আমরা প্রায়ই শুনি যে, ইংরেজীতে দক্ষ হতে হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই চাকরির বাজারে ইংরেজীতে দক্ষতার বিকল্প নেই। তবে কি শুধু ইংরেজী আর সিজিপিএ হলেই হবে ? মোটেও না। এরকম ধারণার মাঝে নিজেকে আটকে ফেলা যাবে না।

ভালো সিজিপিএ আর ইংরেজীতে দক্ষতা দুই ই আপনাকে প্রতিযোগিতার দৌড়ে টিকিয়ে রাখবে এটা যেমন সত্য তেমনি এই দুইটি বিষয় যে লক্ষ্যে পৌঁছানোর একমাত্র অবলম্বন তাও নয়। তার জন্য চাই আরও কিছু দক্ষতা। সমসাময়িক দেশ-বিদেশের খবর, ভালো বই, তথ্য বহুল বিভিন্ন বিষয় আপনার দক্ষতা বাড়াতে অনেক সাহায্য করবে। চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে সবসময় একটা হতাশা কাজ করে এই চাকরি নিয়ে। সব জায়গায় শুধু অভিজ্ঞতা চায়।

চাকুরেদাতারা সবসময় অভিজ্ঞ প্রার্থী চান; Image source : cuinsight.com

চাকরির আবেদন করতে হবে বুঝে শুনে। প্রাথমিক অবস্থায় সব জায়গায় আবেদন করা ঠিক নয়। আপনার ক্ষমতার মধ্যে যা আছে সেখানে আবেদন করুন। সেই চাকরি হয়তও আপনাকে রাতারাতি আপনার স্বপ্নের কাছে নিয়ে যাবে না বা আপনার প্রত্যাশিত বেতন দিবে না। তবে সেটা আপনার স্বপ্ন পূরণের ভিত্তিপ্রস্তর হতে পারে। আর এখানকার অভিজ্ঞতাই আপনার সব থেকে বেশি উপকারে আসবে।

ইন্টারভিউ বোর্ডের কিছু সাধারণ ব্যাপার থাকে তা সবারই জানা। ফরমাল ড্রেস, হ্যান্ডশেক, হাসি মুখ, কনফিডেন্স থাকা আরও অনেক কিছু। তবে এর বাইরেও আরও কিছু ব্যাপার থাকা খুব জরুরী।

ক্রিস্টোফার হার্ভে ১৯৯৯ সালে গ্রাজুয়েট হন এওএল থেকে এবং ইয়াহুর কনজিউমার ইন্টারনেট বিজনেসের জন্য কাজ করেন। এবং ভিয়েতনামে ওয়ার্কস বিজনেসে ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিইও হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে ফ্রেশারদের যে চারটি বিষয়ে জোর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তা হলো-

১. একজন জিউম্যান রিসোর্স স্পেশালিষ্ট হিসেবে তিনি বলেছিলেন, “অবশ্যই আমি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষ খুঁজি কিন্তু যেহেতু ফ্রেশারদের অভিজ্ঞতা থাকে না সেহেতু সে কাজের প্রতি মনোযোগী কিনা সেটা দেখি। সে যে বিষয়ে কাজ করতে চাচ্ছে সেটাতে সে কতটা দক্ষ। যেমনঃ সে ফিন্যান্স বা একাউন্টিং এর ছাত্র হয় তাহলে অবশ্যই তাকে এক্সেলের কাজ পারতে হবে।

ফিন্যান্স বা একাউন্টিং এর ছাত্রদেরও অবশ্যই এক্সেলের কাজ পারতে হবে; Image Source: thenextweb.com

২. কোন বিষয়গুলো একজন প্রার্থীকে আগ্রহী করে তোলে, কোন বিষয়গুলোতে সে নিজেকে আরও বেশি দক্ষ করে তুলতে চাচ্ছে সেটা হোক এক্সেল বা নতুন বই যা তাকে আরও দক্ষ করে তুলবে সেটা একজন চাকুরীদাতা জানতে চেষ্টা করেন ।

৩. যে কোম্পানিতে আবেদন করছেন অবশ্যই তাদের সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিবেন। তাদের বুঝাতে হবে আপনি কিভাবে তাদের কোম্পানিকে সাহায্য করতে পারবেন। আপনার মতে এই কোম্পানির দুর্বল দিক কোনগুলো যা আপনি ঠিক করতে চান। আপনাকে অবশ্যই স্বচ্ছ ধারণা নিয়ে তবেই ইন্টারভিউ বোর্ডে যেতে হবে ।

৪. জেনে নিন আপনি রিস্ক নিতে কতটা ভালোবাসেন। এমন হতে পারে একটি কাজে আপনি দক্ষ নন কিন্তু সে কাজটি থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। প্রার্থীদের ইন্টারভিউতে প্রায়ই যে প্রশ্নটি করা হয় তা হলো, “এমন একটি ভুলের কথা বলেন যেখান থেকে আপনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন?”। অর্থাৎ আপনার নিজের উপরও স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। হতে হবে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। আর অবশ্যই যে বিষয়ে পড়াশোনা করছেন সে বিষয়ের মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হবে।

 

চাকুরেদাতারা সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীকেই নিয়োগ দেন; Image Source : google.com

ইন্টারভিউতে মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করা নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন। চাকুরেদাতা আসলে শুনতে চান আপনি পড়াশোনার পাশাপাশি কী করেছেন ? আপনার জীবনে কী কী অর্জন আছে। সেটা যেকোনো সংগঠন পরিচালনা, বিজনেস কম্পিটিশন বা সামাজিক উদ্যোগ বা সমাজ সেবা, গান, ছবি আঁকা, ফটোগ্রাফি কিংবা পিয়ানো বাজানো ইত্যাদি হতে পারে।

ভাবছেন চাকরিতে আমি কি পছন্দ করি সেটা জেনে কি হবে তাদের ? আসলে আপনার আগ্রহের বিষয়গুলোই হবে আপনি কেমন ছাত্র সেটা জানার। কোন কাজগুলো আপনাকে আগ্রহী করে তুলেছে আপনার সিভি আর এই কাজগুলোই হবে আপনার পরিচয়।

হতাশা বা হন্য হয়ে চাকরির জন্য দৌড় দেয়ার আগে তাই নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলুন। তাই প্রস্তুতি হোক সমৃদ্ধ। নিজেকে গড়ে তুলি দক্ষ চাকুরে হিসেবে।