আপনি কি একজন শিক্ষার্থী? পড়ুন শিক্ষা পরবর্তী জীবনে ক্যারিয়ার গঠনে প্রস্তুতি সম্পর্কে

184
নতুন নতুন চাকরির পোষ্ট পেতে আমাদের পেজ লাইক ও শেয়ার করে রাখুন

আপনি কি স্কুল, কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন? জীবনে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান? সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌছাতে চান? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে কতগুলো অতি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ যা জানলে সাধারণ সকল শিক্ষার্থীদের ভীড়ে আপনিও হয়ে উঠবেন অসাধারণ। এই কাজগুলো জানার মাধ্যমে আপনি সবার থেকে আলাদা ও ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়ে উঠবেন এবং পড়াশোনা শেষ করে চাকরি জীবনে পদার্পণ করেও সব কাজে এগিয়ে রাখতে পারবেন নিজেকে। আসুন জেনে নিই পড়াশোনায় অধ্যয়নরত অবস্থায় যে কাজগুলো জানার মাধ্যমে অন্য সবার থেকে নিজেকে এগিয়ে রাখতে পারবেন-

সফটওয়্যার

ছবিসূত্রঃ pchelpforce.com

আমরা বর্তমানে তথ্য ও প্রযুক্তির চরম উন্নতি ও উৎকর্ষতার যুগে বসবাস করি। আর এই সময়ে যার তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে অধিক ধারণা রয়েছে সে অন্য সবার থেকে এগিয়ে থাকে। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় আপনি যদি সফটওয়্যার সম্পর্কে জানেন তাহলে ভবিষ্যতের কিছু কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। পড়াশোনা শেষ করে প্রথমেই আমরা ভালো চাকরি খুঁজি। আর ভালো চাকরি পেতে হলে কি করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে অবগত নন। তবে কি ভালো চাকরি পাওয়া সম্ভব? নিশ্চয়ই না। তাই ভালো চাকরির জন্য আপনাকে এখন থেকেই মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এম এস এক্সেল, মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্টের কাজগুলো শেখার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে এবং এই কাজে পারদর্শী হতে হবে। উক্ত কাজে দক্ষ হলে চাকরি জীবনের যেকোনো লড়াইয়ে আপনি অন্যদের টেক্কা দিয়ে নিজেকে বিজয়ী করতে পারবেন।

সিনিয়রদের পরামর্শ গ্রহণ

ছবিসূত্রঃ thumbs.dreamstime.com

সফল হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, একজন সফল এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছ থেকে সঠিক পরামর্শ নেয়া। আপনার থেকে সিনিয়র ব্যক্তি নিঃসন্দেহে আপনাকে ভালো পরামর্শ দিতে পারবে। আপনার এলাকায়, পাড়ায়, মহল্লায় যে ব্যক্তি সফল তার কাছ থেকে পরামর্শ নিন। আপনার কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র বড় ভাইয়া অথবা বড় আপুর কাছ থেকেও পড়াশুনা সম্পর্কিত, চাকরি সম্পর্কিত পরামর্শ গ্রহণ করুন। যেহেতু তারা আপনার পর্যায় থেকে উন্নতর পর্যায়ে ঊত্তীর্ণ হয়েছে সেহেতু তারা আপনাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন। তাই প্রতিনিয়ত একজনকে আদর্শ মানুন। তার কথা শুনুন।

পাঠক্রম বহির্ভুক্ত কার্যকলাপ

ছবিসূত্রঃ i.ytimg.com

ছাত্রজীবনে শুধু পড়াশোনা করলেই হবে না, হতে হবে সৃজনশীল ও মননশীল। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি যারা পাঠ্যক্রম বহির্ভুক্ত কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকে তারা সফল হয় দ্রুত। পড়াশোনার পাশাপাশি গান, নাচ, ছবি আঁকা, গল্প বলা, অভিনয়, ছড়া বা কবিতা লেখা ইত্যাদিতে পারদর্শীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে অনেকাংশে এগিয়ে থাকে। কলেজে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি চর্চা এবং অংশগ্রহণ করতে পারেন বিতর্ক, উপস্থাপনা, উপস্থিত বক্তৃতায়। এতে আপনার সাহস বাড়বে, আত্মবিশ্বাসও বাড়বে। আর অবশ্যই বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার চেষ্টা করবেন। এভাবে আপনি হয়ে উঠবেন ক্যাম্পাসের সেরাদের একজন।

নিজেকে তৈরি ও যাচাই

ছবিসূত্রঃ harpercollege.ed

ছাত্রজীবন নিজেকে তৈরি করার এবং নিজেকে যাচাই করার উপযুক্ত সময়। এ সময়ে অফুরন্ত সময় থাকে নিজেকে উন্নত করার। মাধ্যমিক কিংবা উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে আপনি ইংরেজী স্পোকেনও শিখে নিতে পারেন যা ভবিষ্যতে আপনার সফলতায় ব্যাপক অবদান রাখবে। একজন শিক্ষার্থীর জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ খুব জরুরী। তাই সময় ও সুযোগ করে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে নিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা যারা বিবিএ করছেন তারা বিজনেস কম্পিটিশনে, আইডিয়া প্রতিযোগিতা (কন্টেস্ট), উদ্যোক্তা কনটেস্টে অংশগ্রহণ করতে পারেন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে স্বেচ্ছাসেবক হতে পারেন শুধু নিজের আত্মোন্নয়নের জন্য। তাই আজ থেকেই আত্মোন্নয়নের জন্য কোন একটা কাজে জড়িত হোন।

নির্ভুল সিভি

ছবিসূত্রঃ assignmentpoint.com

আপনার স্বপ্নের চাকরি এবং আপনি দুটো আলাদা বিষয়। এই দুয়ের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে দিবে সিভি অর্থাৎ তথ্যবহুল সিভি দেখেই একটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করবে আপনি ঐ প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে যোগ্য কিনা। তাই সিভি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্নাতক প্রথম বর্ষ থেকেই সিভি প্রস্তুত করে রাখা উচিত। অনেকেই ভাবে স্নাতক/বিবিএ শেষ হলে সিভি তৈরি করবো। এটি ভুল ধারণা। কারণ সিভি প্রস্তুত থাকলে যেকোনো সময় যেকোনো প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে পারবেন, সিভি প্রস্তুত না থাকলে তা সম্ভব নয়।

সিভি তৈরি থাকলে শুধু প্রতিবছর সিজিপিএ ছাড়া অন্য কিছু পরিবর্তন করতে হবে না। তবে যদি এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিসে অংশগ্রহণ করেন তাহলে তা অবশ্যই সিভিতে যোগ করে দিন। মনে রাখতে হবে অতি রঞ্জিত কথা, ভুল তথ্য, অন্যকে অনুসরণ করে আজগুবি কোনো কিছু সিভিতে দেয়া যাবে না। সিভিতে নিজের সাক্ষর ব্যতীত অন্যসব তথ্য টাইপ করুন। দিতে হবে সুন্দর ও মার্জিত ছবি। মডেলিং কিংবা মুখভঙ্গিমা বদলে তোমা ছবি সিভির জন্য নয়। ইমেইল আইডি অবশ্যই আপনার নামে হতে হবে। আপনার ইমেইল আইডি যদি অবুঝ বালক, বোকা মেয়ে, রাগী ছেলে ইত্যাদি নামে খোলা থাকে তাহলে আজই এডিট করে নিজের নাম বসান অথবা নতুন মেইল আইডি খুলুন। চাকরি প্রতিষ্ঠান সর্বদা সচেতন ও দায়িত্বশীল কর্মী চায়। তাই ইমেইলের ব্যাপারে সচেতন হোন।

নিজেকে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করা

ছবিসূত্রঃ af-production.s3.amazonaws.com

নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হলে আপনাকে জ্ঞান অর্জনে ব্রত হতে হবে। প্রতিটি সফল ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনে দৃঢ় প্রত্যয়ী থাকেন। সফল ব্যক্তিরা নিজ কাজের পাশাপাশি প্রচুর বই, ম্যাগাজিন, খবরের কাগজ পড়েন। এভাবে আপনার সাধারণ জ্ঞানের দক্ষতা বাড়বে এবং যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ আপনার জন্য সহজ হবে। আপনি যত বেশি পড়বেন তত বেশি যুক্তি দিয়ে অন্যের কাছে মতামত উপস্থাপন করতে পারবেন।

ডিজিটাল ওরিয়েন্টেশন

ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, লিংকডইন হতে পারে আপনাকে সুপরিচিত করার বড় মাধ্যম। তাই আজ থেকেই এইগুলোর যথোপযুক্ত ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন আপনার ফেইসবুক প্রোফাইল থেকে আপনার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পেয়ে যাবে। বর্তমানে আপনি সিভিতে ফেসবুক প্রোফাইলের লিংক দিয়ে দিবেন। এটা খুবই কার্যকরী হবে আপনাকে জানার জন্য। আপনার যাবতীয় কার্যক্রম, অভিজ্ঞতা ফেইসবুক প্রোফাইলে যোগ করে রাখবেন যেন অন্যরা আপনার সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেয়ে যায় আপনার ফেসবুক থেকে।